আমি বিশ্বাস করিনি।
এতোদিন ধরে অসুস্থ এক খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হাসপাতালে শুয়ে আছেন, কোথায় দেখিনি তার আশু আরোগ্য কামনায় কোনো বিজ্ঞাপন। তারপরও আমি বিশ্বাস করিনি এটা এখন তার সহধর্মীনি ক্ষমতায় আছে বলেই হয়েছে।
বহুজন বলার পরও আমি বিশ্বাস করিনি, এগুলো শোকের আড়ালে বিজ্ঞাপনই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিনের একটা বিজ্ঞাপন দেখে আর বিশ্বাস রাখতে পারিনি। কারণ,এক লুঙ্গি কোম্পানির শোকবার্তা পড়ে যখন বুক বির্দীর্ন হবার যোগার তখন সবার নিচে লেখা দেখলাম,
...ওমুক লুঙ্গি সাড়ে ৭ হাত ...
আমি বুঝলাম, শোক-টোক কিছু নয়। বিজ্ঞাপনই মূল।
পৃথিবীটা বড় বেশী কর্পোরেট হয়ে গেছে।
এমনি হাজারো বিজ্ঞাপনে আমদের মুখ ডেকে যায় । আমরা আকাশ দেখিনা, উপরে তাকালে বিলবোর্ড আর মডেল দেখি। আমরা সবুজ গাছ ছুয়ে দেখতে পারিনা, কারন ছুলে সাইনবোর্ডে হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আমাদের টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা জুড়ে আমরা ভাসে বিজ্ঞাপনের তরী।
অনেক ক্ষেত্রে আমরা হিসেবের বাইরে চলে যাই। বহু পত্রপত্রিকা আছে বিজ্ঞাপনে যাচাই-বাছাই নাই। করেনা। ছেপে ভুল বোঝে। দুঃখ প্রকাশ করে। আবার, পরের দিন প্রথম পাতা পুরোটাই বিজ্ঞাপনের জন্য ছেড়ে দেয়।
দ্বিতীয় সারির পত্রপত্রিকাতে আপত্তিকর বিজ্ঞাপনের জোয়ার চলমান, মাঝে মাঝে প্রথম সারির প্রত্রিকাতেও তা চলে আসে।
একটাই কারন নীতিমালা নাই বা টাকাকেই বড় করে দেখা। আসুন আজ নজরুলের এই জন্মদিনে ১৯২২ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ধুমকেতু পত্রিকার বিজ্ঞাপন নিয়মাবলী দেখি...শেখা না হোক জেনে রাখা যাবে..এক সম্পাদকের দ্বায়িত্ববোধ...
নিয়মাবলী-
১. দেশের অনিষ্টকর কোনো বিলাতি বিজ্ঞাপন লওয়া হয়না।
২. মদের বিজ্ঞাপন লওয়া হয়না।
৩. কোনোরূপ অশ্লিল বিজ্ঞাপন লওয়া হয়না।
৪. দেশীয় বিজ্ঞাপনের মধ্যে যদি এমন কোনো ওষুধ বা জিনিস থাকে যাহাতে দেশের লোকের আর্থিক বা নৈতিক ক্ষতি হইতে পারে, সেরূপ কোনো বিজ্ঞাপন লওয়া হয়না।
৫.হিন্দু মুসলমান বিদ্ধেষমূলক কোনো বিষয়ের বিজ্ঞাপন লওয়া হয়না বা কোনো আলোচনা করা হয়না।
৬. মফস্বলবাসী ক্রেতাগণ বিজ্ঞাপন-দাতাগনের নিকট প্রতারিত হইয়া আমাদিগকে জানাইলে আমরা তৎক্ষনাত সেই বিজ্ঞাপন বন্ধ করিয়া দেবো এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক করিয়া দেবো।
৭. অনাথ, বিধবা, দেশের জন্য যাহার, জেল খাটিয়া আসিয়া সামান্য মূলধনের কারবার করিতেছেন, প্রয়োজন হইলে তাহাদের বিজ্ঞাপন বিনামূল্যে প্রকাশ করা হয়।
৮. ভারতবর্ষীয় শ্রম, অর্থ ও শিল্পজাত দ্রব্যের বহুল প্রচার উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত দ্রব্যের নিরপেক্ষভাবে দোষগুন সমালোচনা করা হয়।
হায়,নজরুল!
তুমি কি শেষ পর্যন্ত জেনে যেতে পেরেছো তুমি আসলেই মহান হয়েছিলে কিনা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

